===

What It's Like to Not Be Able to Have Sex | Figure Drawing Pencil ...

What It's Like to Not Be Able to Have Sex | Iris

#গোলাপ_সুন্দরী!
#পর্ব:- ০৫
রামিশা বললো, " আপনি নাদিমের কাছে কল করেছিলেন কেন? তাও আবার নতুন নাম্বার দিয়ে। "
নাতাশা এবার কেঁদে উঠলো। রামিশা চুপচাপ তার দিকে তাকিয়ে রইল। নাতাশা যেন হঠাৎ করে গভীর সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে। কোনোমতে নিজেকে সামলে নিল।
বললো,
" অফিসে বসে ফাহিমের সঙ্গে নাদিমের সকল কথোপকথন আমি শুনতে পাই। হঠাৎ করে নাদিম কেন আমার স্বামীর কাছে গেল, আর নতুন করে তার উদ্দেশ্য কি। এসব জানার জন্য নাদিমের সঙ্গে কথা বলতে কল করেছিলাম। "
" ৪ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড কথা হয়েছে। তারপর কল কেটেছিল কে? আপনি নাকি নাদিম? "
" নাদিম কেটে দিয়েছে, কল কেটে দিয়ে মোবাইল বন্ধ করে দিয়েছিল। "
" আপনাদের মধ্যে কিরকম কথা হয়? "
" আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম আমার স্বামীর সাথে দেখা করার কারণ কী? তারপর আমার বাবার কাছ থেকে কত টাকা নিয়ে আমার জীবন থেকে চলে গেছে ইত্যাদি। "
" আপনার মেয়ে কিডন্যাপ করার কোনো হুমকি সে দিয়েছে? "
" না। "
" আপনি কল করার ১৮ মিনিট আগে আপনার স্বামী তাকে কল করেছিল। "
" আমি সেটা জানতাম না। "
" ঠিক আছে আমি চলে যাচ্ছি, সাজু ভাই এলে হয়তো আবারও নতুন করে কিছু জিজ্ঞেস করতে পারে। আপনারা স্বামী স্ত্রী দুজন মিলে সবকিছু গন্ডগোল করে দিয়েছেন। "
" আমার মেয়ে। "
" আপনার মেয়েকে বাঁচানোর জন্য মিথ্যা কথা বলে হয়রানি করছেন। তাই না? "
" না, বিশ্বাস করুন এরকম কিছু না। "
" আমার কাছে প্রশ্ন করার মতো আর কিছু নেই। বাদবাকি সব সাজু ভাই এসে বলবে। "
কেবিন থেকে বের হয়ে গেল রামিশা। হাসপাতাল থেকে বের হয়ে সিএনজি নিয়ে সরাসরি আপুর বাসায় রওনা দিল।
★★★
নাতাশাদের বাসার দারোয়ান বারবার একই কথা বলে যাচ্ছেন। ফাহিম সাহেবকে পুলিশ যখন ধরে নিয়ে যায় তখন পুলিশ ছাড়া আর কোনো মানুষ গেইট দিয়ে প্রবেশ করে নাই।
সাজু ভাই ও দারোগা আকাশ শেখ দুজন মিলে ফাহিমদের ফ্ল্যাটে গেল। উপর থেকে ফাহিমের বন্ধু পাভেল সাহেবকে ডেকে আনা হয়েছে। সাজু ভাই বললেন,
" গভীর রাতে যখন পুলিশ আসে তখন আপনি কীভাবে জানতে পেরেছেন? "
" আমি তখন বেলকনিতে বসে আছি। হঠাৎ করে বাসার সামনে পুলিশের গাড়ি দেখে অবাক হয়ে গেলাম৷ তারপর ইন্টারকমে দারোয়ানকে কল দিয়ে জানতে পারি। "
" একটা ভেজাল আছে। "
" মানে? "
" আপনি যদি পুলিশকে দেখে দারোয়ানকে কল দিয়ে জানতে পারেন। তাহলে উপর তলা থেকে ফাহিম সাহেবের ফ্ল্যাটে আসতে আপনার সময় লাগবে সর্বোচ্চ দুই মিনিট। "
" সেরকমই তো লেগেছিল। "
" পুলিশ বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে, তারপর এসে কলিং বেল বাজালো, দরজা খোলা হলো, ফাহিম সাহেবের সঙ্গে কথা হলো। সবমিলিয়ে ২০/২৫ মিনিটের কম হবে না। তারচেয়ে আরো বেশি হতে পারে। তাহলে আপনার দুই মিনিট কোই? "
পাভেল সাহেবের স্ত্রী বললেন,
" আসলে উনি প্রথমে একটু সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিল। আসবো কি আসবো না, এরকম চিন্তা করতে করতে সময় কেটে যায়। "
" আচ্ছা আপনার কথা মেনে নিলাম। কিন্তু যখন আপনার স্বামী জানলেন যে ফাহিমের বাসায় পুলিশ এসেছে। তখন অন্তত ফাহিমের নাম্বারে একটা কল দেবে তাই না? আমরা তো এটাই করি সচারাচর। কেন পুলিশ এসেছে, কি কারণ ইত্যাদি জানার জন্য। "
" আমাদের কারো মোবাইলে ব্যালেন্স ছিল না। "
সাজু একটু চুপ করে রইল। তারপর দারোগা আকাশ শেখকে বললেন,
" পাভেল সাহেবের নাম্বারটা কললিস্ট চেক করে দেখবেন। সেই রাতে তিনি ওই সময় কারো সঙ্গে কল দিয়ে কথা বলেছে কিনা। "
অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ফাহিম সাহেবের বন্ধু পাভেল রহমান। সাজু আর সময় নষ্ট করতে চাইল না। রামিশা কিছুক্ষণ আগে টেক্সট করেছে। তার বোনের বাসায় যেতে বলেছে, জরুরি কথা আছে। কি জরুরি কথা সেটা বলে নাই। তাই এখান থেকে বের হয়ে বাইক নিয়ে সরাসরি রামুর আপুর বাসায় রওনা দিল সাজু ভাই।
★★★
দরজা খুলে মলিন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রামিশা। সাজু ভিতরে যাবার পথ পাচ্ছে না, কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থেকে দরজা থেকে সরে গেল। রামিশার সঙ্গে ড্রইং রুমে গিয়ে বসলো সাজু। রামিশা কিছু না বলে ভিতরে চলে গেল, সাজু ভাই তার সামনে রাখা আজকের সকালের পত্রিকা হাতে টেনে নিল।
দুই মিনিটের মধ্যে রামিশার বাবা ড্রইং রুমে এসে সাজুর সামনে বসলো। সাজু ভাই দাঁড়িয়ে সালাম দিলেন।
" আসসালামু আলাইকুম। আঙ্কেল কেমন আছেন? "
" ওয়া আলাইকুমুস সালাম, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। বসো বাবা। "
সাজু বসলো, রামিশাকে এখনো দেখা যাচ্ছে না। সাজু একটু ইতস্তত করতে লাগলো। রামিশার বাবা নিজেই আবার বললেন,
- তোমার বাড়ির সবাই কেমন আছে?
- সবাই ভালো আছে।
সাজুর মোবাইল বেজে উঠলো। অনুমতি নিয়ে সেখানে বসেই কল রিসিভ করলেন সাজু ভাই। মিনিট খানিক কথা বলে কলটা কেটে দিল। তবে তার কথা বলার ভঙ্গিতে আঙ্কেল বুঝতে পেরেছে সাজুকে এক্ষুনি যেতে হবে।
- তোমাকে কি এখনই বের হতে হবে?
- একটু তাড়া ছিল আঙ্কেল, একটা খু/নের তদন্ত চলছে। সেদিকে একটু ব্যস্ততা।
- আমি পাঁচ মিনিটের মধ্যে কথা শেষ করবো।
- বলেন আঙ্কেল, সমস্যা নেই।
- দেখো বাবা, আমি আমার ছোট মেয়ে রামিশাকে খুব ভালোবাসি। আমি জানি তোমরা দুজন অনেক ভালো বন্ধু। একজন আরেকজনকে খুব ভালো করে চেনো।
- জ্বি।
- তুমি খুব ভালো একটা ছেলে। কিন্তু সবসময়ই আমার একটা ভয়ের মধ্যে থাকতে হয়।
- ঠিক বুঝলাম না আঙ্কেল।
- তোমার যে পেশা, এতে সবসময় টুকটাক কিছু বিপদের সম্ভাবনা থাকে। শত্রুদের সঙ্গে তোমার কাজকর্ম, তাদের নিয়েই তোমার সবকিছু। তাই আমি আমার মেয়েকে এরকম বিপদের মধ্যে রাখতে চাই না।
- আচ্ছা।
- ডিটেকটিভ পেশা না হয়ে তোমার যদি যেকোনো একটা পেশা হতো তাহলে আমি হাসতে হাসতে আমার মেয়েকে তোমার হাতে তুলে দিতাম।
- বুঝতে পারছি, আঙ্কেল এটা আমার পেশা নয়। নিজের সখ থেকে এটা করা হয়। তাছাড়া নিজেকে একপ্রকার ব্যস্ত রাখার একটা কৌশল।
- হ্যাঁ সেটা ঠিক আছে। কিন্তু তুমি তো পুরোপুরি এটা ছেড়ে দিয়ে নতুন করে কোনো পেশায় নিজেকে জড়াবে না তাই না?
- সেরকম ইচ্ছে নেই। টাকাপয়সার প্রতি তেমন কোনো আগ্রহ আমার নেই। বাবা লন্ডনে আছে, গ্রামের বাড়িতে দাদা-দাদি এখনো জীবিত। আজ এখানে কাল সেখানে, এরকম চলছে জীবন।
- সেজন্য আমি বলছিলাম যে....
- এ ব্যাপারে রামিশার সঙ্গে কথা বলেছেন?
- হ্যাঁ।
- তার মতামত কী?
- সে আমাকে সম্মান করে, বাবা হিসেবে আমার কথা সে রাখবে।
- ঠিক আছে। তবে আপনার কাছে অনুরোধ যে আমাদের মাঝে মাঝে যোগাযোগ হবে। জীবন সঙ্গী হবে না তাই বলে যে যোগাযোগ বন্ধ করতে হবে এমনটা তো নয়। বন্ধুত্ব বজায় থাকুক।
- সেটা অবশ্যই।
- আমি তাহলে আসি?
- দাঁড়াও রামিশাকে ডাকি, একটু নাস্তা করে যাও।
- থাক ডাকতে হবে না, আমার একটু তাড়াতাড়ি যেতে হবে। এক নিরপরাধ ব্যক্তি জেলে আছেন, তার স্ত্রী হাসপাতালে, আবার তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে কিডন্যাপ হয়েছে। মেয়েটাকে উদ্ধার করতে হবে তাই সেখানেই যাবো এখন।
- ঠিক আছে বাবা, আবার দেখা হবে।
- ইন শা আল্লাহ, ভালো থাকবেন আঙ্কেল।
খুব দ্রুত দরজা খুলে বের হয়ে গেল সাজু ভাই। বাসার নিচে এসে বাইক নিয়ে গেইট দিয়ে বাহির হয়ে রাস্তায় নামলো। হঠাৎ কি মনে করে তিনতলা বেলকনিতে তাকালো। রঙিন লাইটের আলোতে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে। চিনতে মোটেই অসুবিধা হলো না সাজু ভাইয়ের।
পকেটে মোবাইলে মেসেজ আসার শব্দ হলো। মোবাইল বের করে মেসেজ চেক করলেন।
" সাবধানে থাকবেন সাজু ভাই, যেখানেই থাকেন, নিজের খেয়াল রাখবেন। "
মোবাইল রেখে বাইক স্টার্ট দিলেন। তাকে এখন দ্রুত যেতে হবে নাদিম যেখানে খু/ন হয়েছে তার ঠিক অপজিটের বিল্ডিংয়ে। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ রাতের মধ্যে খুনিকে পাওয়া সম্ভব হবে।
চলবে....----------------
মোঃ সাইফুল ইসলাম সজীব।

 =========================== 00000000 ==========================

ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল
পর্ব_২১
লেখিকা : আফরোজা আক্তার
বুকের মধ্যে নিমিষেই এক তুফান শুরু হয়ে যায় বেলীর । আসলেই কি সুখের মিলন হতে দেয়া যায় ? অসলেই কি একটু সুখের মিলন হলে খুব বেশি ক্ষতি হবে ? তবুও কেন যেন কোথাও একটা বাঁধা কাজ করে বেলীর মাঝে । আবার নাও করতে পারে না , যতই হোক স্বামী তো তার । বিয়ের পর বাবা মায়ের পর স্ত্রীর উপর তার স্বামীর অধিকার থাকে বেশি । কিন্তু বেলীর ভেতরটা হু হু করে কেঁদে ওঠে তখন যখন ইরফানের করা সমস্ত খারাপ আচরণ গুলো মনে পড়ে যায় । যখন মারধরের দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে । বেলী তখন নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না ।
আজও ব্যাতিক্রম কিছু ঘটে নি তার সাথে । সুখের মিলনের সাথে দেখা হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সেইসব বিষাদের দিন গুলো মনে পড়ে যায় বেলীর । ইরফানের হাতের স্পর্শ পাওয়ার সাথে সাথে অন্তরখানা পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে তার । নিজের ভেতরে উথালপাতাল শুরু হয়ে গেছে বেলীর । কেন যেনো মানতে পারে না সেও । এতটা কষ্ট কি তার পাওনা ছিল ? নিজের কাছে এইসব জিনিস গুলো লজ্জাজনক লাগে বেলীর কাছে ।
বেলী আর সহ্য করতে পারেনি । পিছন ফিরেই ঝাপটে ধরে ইরফানকে । বেলীর এইভাবে ঝাপটে ধরা দেখে একটু হতভম্ব হয়ে যায় ইরফান । বেলী শব্দ করেই কেঁদে দেয় ইরফানের বুকে । দুইহাতে নিজের মুখ ঢেকে ইরফানের বুকে হাতে আবদ্ধ সেই মুখটি লুকিয়ে রেখে কেঁদে ওঠে বেলী । এক সময় ইরফান বেলীর পিঠটা নিজের হাত দিয়ে আগলে ধরতে যাবে তখনই বেলী ধুপ করে কাঁদতে কাঁদতে নিচে বসে পড়ে । একে তো শরীর খারাপ তার উপর এইভাবে কান্না করাটা তার শরীরের পক্ষে খারাপ হতে পারে । মুহুর্তের মাঝে ইরফান চমকে যায় , বেলীর কান্না আরেকটু জোর শব্দে পরিণত হয় । ফ্লোরে বসে মুখ চেপে কাঁদতে থাকে মেয়েটা । ইরফান হাটু গেড়ে নিচে বসে পড়ে বেলীর কাছে । হাতটা দিয়ে বেলীর মাথায় রাখে ।
- কি হলো ? এইভাবে কাঁদছো কেন ?
-................
- এই বেলী এইভাবে কাঁদছো কেন ?
-..................
কাঁদতে কাঁদতে হিচকি উঠে গেছে মেয়েটার । ইরফান বেলীর কান্না থামানোর জন্যে গ্লাসে এনে পানি দেয় তাকে খাওয়ার জন্যে । কিন্তু বেলী খায়নি । তারপর কেন জানি নিজ থেকেই ইরফানের হাতটা টেনে নিজের কাছে বসায় সে । কাঁদতে কাঁদতে বলতে শুরু করে দেয় বেলী ।
- আপনি আমায় অনেক মারছেন । আপনি জানেন আমি কত ব্যাথা পাইতাম তখন ? আমার অনেক ব্যাথা লাগতো আমি তবুও কিছু বলতাম না আপনাকে । আরে ভালো না বাসতেন তাই বলে এইভাবে মারবেন ? আপনার এক একটা লাথি এক একটা ঘুষি অনেক ব্যাথা দিত আমার এই শরীরটাকে । আপনি জানতেন না আমি কত রাত ব্যাথার যন্ত্রণায় ঘুমাইতে পারি নাই । সেইবার শলার ঝাড়ু দিয়ে পর্যন্ত মারছেন । এমন ভাবে মারছেন যে শলা পর্যন্ত ঢুকে গেছে শরীরে । এইভাবে বুঝি কেউ কাউকে মারে , হ্যাঁ ।
এই দেখেন৷, এইদিকে দেখেন , আমার এই শরীরটা যখন স্বামীর ছোয়া পেতো তখন এই শরীরটা স্বামীর মাইর পাইছে । এই ইরফান সাহেব , আমাকে এত মারছেন কেন ? আমাকে বললেই হইতো আমি চলে যেতাম । বা ভাতের সাথে বিষ দিয়ে দিতেন খেয়ে মরে যেতাম । তবুও না মারতেন । এইদিকে দেখেন , এই যে দেখেন আমার পিঠটায় কত দাগ এখনও আছে । সেইবার বেল্ট দিয়ে মারছেন । আচ্ছা একটুও মায়া হয় নাই , তাই না ? বেলীকে যে এইভাবে মারি ওর শরীরটা কি এত মাইর নিতে পারে ? একবার জানতে চান নাই , তাই না ? ওইদিন চা দিতে একটু
দেরি হয়ে গেছিলো বলে এইভাবে মারছিলেন । আপনি আমায় মেরে কেন ফেলান নাই ? হ্যাঁ , কেন মেরে ফেলান নাই আমাকে আপনি ? শুনেন না , এইদিকে তাকান আমার দিকে , আমি কিন্তু অনেক ব্যাথা পাইতাম যখন মারতেন , কিন্তু শব্দ করতাম না । বলেন করতাম কিনা , বলেন না , আমি কি মারার সময় কোন শব্দ করতাম ?
বেলী নিজের মাঝে তখন ছিল না , সে অনেকটা উন্মাদ হয়ে গেছে মনে হচ্ছিলো । চোখের পানি নাকের পানি এমনকি লালা চলে আসছে মুখ দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে । হয় অনেক সময় এমন । মানুষ যখন অতি শোকে পাথর থাকে তারপর সেই পাথর গলে গেলে তখন যেই পতিক্রিয়া হয় এখম সেই প্রতিক্রিয়াটা হচ্ছে বেলীর । ইরফানের ভেতরের কলিজাটা ছিড়ে যাচ্ছে বেলীর এমন পাগলামি দেখে । সে একদম নিশ্চুপ হয়ে ফ্লোরে বেলীর সামনে বসে আছে । বেলী হাত ধরে জোড়াজুড়ি করছিল উত্তর জানার জন্যে । তখন বাধ্য হয়েই ইরফান জবাব দেয় ৷
- উহু কোন শব্দ করতে না ।
তখন বেলী আবারও কেঁদে দেয় । এইবার ইরফানের দুই হাত ধরে নিজের কাছে আনে বেলী । তারপর আবার বলা শুরু করে সে ,
- যখন দেখতেন আমি শব্দ করতাম না তখনও কি মায়া হতো না আমার উপরে । খালি মেরেই গেছেন মেরেই গেছেন । আমি কি ব্যাথা পাই না বলেন ? আমিও ব্যাথা পাই ।
- হু , আমি তো অমানুষ , আমি বুঝতেই পারি নাই এটা যে একটা ফুল । যেই ফুলটা একদম নিষ্পাপ , সেই ফুলটাকেই এত অবহেলা করে বসলাম ।
- আমি কি করছিলাম হ্যাঁ , কি করছিলাম , আপনি আমায় একটুও দেখতে পারেন নাই , বলেন । আমি কি বলছিলাম যে আমাকে বিয়ে করেন , তখন তো আমার বাবা আর আপনার বাবা বললেন আমি কি করতাম । বাপ আমার মরে গেল , তখনও আপনার বাবা বিয়ের কথা বলে গেছে আমার মাকে । আমার কি অপরাধ ছিল । আমি একদিন নামাজ পড়তেছিলাম সাড়া দিতে পারি নাই বলে জুতা নিয়ে আসছেন আমাকে মারার জন্যে । আমার তখন কি অন্যায় ছিল , বলেন তো ?
- অন্যায় তোমার না , অন্যায় ছিল আমার । আমিই খারাপ মানুষ , আমিই কষ্ট দিলাম তোমাকে ।
- আমার বাপ মা আমায় মারে নাই , আমি তাদের কাছে ফুল ছিলাম তাদের শখের বেলীফুল , আর সেই ফুলটারেই আপনি ছিড়ে ফেললেন এইভাবে ? এর থেকে ভালো ছিল আমায় বিষ দিয়ে মেরে দিতে । আমি টু-শব্দটাও করতাম না ।
ইরফানের আর সহ্য হয়নি । এক টানে বেলীকে নিজের বুকে এনে ফালায় সে । তারপর বসা অবস্থাতেই শক্ত করে ধরে রাখে বেলীকে । ইরফান আজ কাঁদছে , ছেলেরা কম কষ্টে কাঁদে না । তাদের তেমন কষ্ট হলেই তারা কাঁদে । ইরফান আজ নিরবে কাঁদছে । বেলীকে নিজের কলিজায় ঢুকিয়ে রাখতে ইচ্ছা করছে তার । এইটুকুন একটা মেয়ে সে অথচ এই বয়সে সে কি কি সহ্য করে গেছে , তবুও মুখ খুলে নি । বেলী তখন ইরফানের বুকে থেকেই বলতে শুরু করে ,
- বুঝবেন বুঝবেন একদিন ঠিক বুঝবেন , আমি যেদিন থাকবো না সেদিন খুব করে বুঝবেন । আমি তখন আকাশের তারা হয়ে যাবো , আমি আর আমার বাবা তখন উপর থেকে দেখবো আপনি কিভাবে কান্না করেন । হারিয়ে যাবো আমি আপনার জীবন থেকে , তখন বুঝবেন , হ্যাঁ , দেইখেন তখন বুঝবেন ।
বেলীর কথা শুনে ইরফান বেলীকে আরও শক্ত করে ধরে রাখে আর বলে ,
- চুপ , একদম চুপ । তোকে হারাতে দিলে তো হারাবি ।
- বেলীফুল ঝরে যাবে ।
- কখনো না ,
- হ্যাঁ , দেইখেন আপনি বেলীফুল ঝরে যাবে । সেইদিন বেলীফুলের কবরের পাশে বসে শুধু চেয়ে দেখবেন আপনি আর বেলীফুল তখন মিশে থাকবে মাটির সাথে ।
বেলীর কথা শুনে ইরফান আবারও ধমক দিয়ে থামায় বেলীকে ।
- থামবি তুই , না হয় আবার মারবো কিন্তু ,
- মারেন , আরও মারেন ।
- হ্যাঁ মারবোই তো এইবার সত্যি সত্যি মারবো ।
- মারেন ,
- এখন কিন্তু মার খাবি বলে দিলাম ,
- হ্যাঁ মারেন , মেরেই ফেলেন আমাকে ।
ইরফান এইবার বেলীকে ছেড়ে দেয় । নিজের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় বেলীকে । তারপর উঠে দাঁড়ায় সেইস্থান থেকে । বেলী তখনও বসা অবস্থাতেই আছে । ইরফান বেলীকে সেইভাবেই কোলে তুলে নেয় । কোলে তুলে বিছানায় শুইয়ে দেয় বেলীকে । অঅন্ধকার রুমে ড্রীম লাইটের আলোয় যতটুকু দেখা যায় তাই-ই অনেক । পাশে থাকা টাওয়ালটা দিয়ে বেলীর চোখের পানি নাকের পানি সব মুছে মুখটা পরিষ্কার করে দেয় ইরফান
। তখন বেলী চুপ করে থাকে আর ইরফানের দিকে চেয়ে থাকে । ইরফান বেলীর মাথায় হাত রাখে ,
- ঘুমাও , আর একটা কথা না । কাল সব শুনবো আমি ।
-..................
- আর হ্যাঁ আমি আসলেই খারাপ মানুষ , কি করার আল্লাহ পাক তোমার ভাগ্যে এই খারাপ মানুষটাকে রাখছে । তাই কিছুই করার নাই । কাঁদবা না একদম , চুপচাপ ঘুমাবা ।
বেলী একদম চুপ করে শুয়ে আছে । চোখে তার ঘুমের নেশা । চোখ গুলো টিপ টিপ করছে আর বুজে আসছে । ইরফানের বেলীর মাথায় হাত বুলানোটা কাজে এসেছে । ইরফানের ডান হাতটা ধরে আছে বেলী । তারপর একটা সময় বেলী আস্তে করে ঘুমের রাজ্যে চলে যায় ।
বেলীর ঘুমন্ত চেহারার দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে ইরফান । বেলীর আজকের কথাগুলো ইরফানের ভেতরটাকে নাড়িয়ে দিয়েছে । বেলী ঘুমানোর পর ইরফান বেলীকে রেখে নিজের রুমে যায় ।
ইরফান কখনো বাসায় স্মোক করে না । তবে আজ সে বারান্দায় দাঁড়িয়ে স্মোক করছে । ঘড়িতে প্রায় ২ টা বাজে । রাত গুলো হয়তো এমনভাবেই কাটবে তার । এমন নির্ঘুম আর নিস্ত নিস্তব্ধ । বেলীর কথাগুলো বার বার কানে বাজতে থাকে ইরফানের , বেলীর কষ্ট গুলো বার বার বেলীকে মনে করিয়ে দেয় তার প্রতি ইরফানের করা পৈশাচিকতা গুলো । যা সে ভুলতে ভুলতেও ভুলে নি । হয়তো ভুলতেও পারবে না ।
একদিকে রুবি অন্যদিকে বেলী । রুবিকে সে ছাড়তে পারবে না যদি না রুবি চায় আর বেলী চাইলেও বেলীকে সে ছাড়তে পারবে না । এক সাথে দুই নৌকায় পা দিয়ে চলা যায় না । তেমনি দুই বউ নিয়ে চলা যায় না । হয়তো চলা যায় তবে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় । সেইজন্যেই হয়তো বলে সবাই ,
" ভাবিয়া করিও কাজ , করিয়া ভাবিও না "
হাতে থাকা সিগারেটটায় শেষ টান দিয়ে আগুন নিভিয়ে নিচে ফেলে দেয় ইরফান । বেলীর সাথে করা সমস্ত অন্যায়ের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে তাকে । অনেক সময় লস হয়ে গেছে । আর সময় নষ্ট করা যাবে না । পর মুহুর্তে বেলীর বলা কথাটা মনে পড়ে যায় ইরফানের ,
" দেইখেন আপনি বেলীফুল ঝরে যাবে । সেইদিন বেলীফুলের কবরের পাশে বসে শুধু চেয়ে দেখবেন আপনি আর বেলীফুল তখন মিশে থাকবে মাটির সাথে "
বেলীর কথাটা অন্তরে দাগ কেটে গেছে । সে বেলীকে এইভাবে ঝরে যেতে দেবে না । আগলে রাখবে নিজের বুকের সাথে অতি যতনে ।
- বেলী আমি তোকে চলে যেতে দিবো না । মন পিঞ্জরে যতন করে আটকে রাখবো তোকে । তুই দেখে নিস এই ইরফান তোকে সেই সব খুশি দিবে যা তোর প্রাপ্য । আমার মনের মধ্যে রাখা পুরো জমিনেই তোর রাজত্য চলবে । দেখে নিস তুই ।
বিছানায় শুয়ে এইসব ভাবতে কখন যেনো ঘুম চলে আসে তার চোখে । মনের ভুলে বেলীর রুমেও যেতে ভুলে গেছে সে । নিজের রুমেই ঘুমিয়ে যায় সে নতুন এক ভোরের আশায় সেই সাথে নতুন করে সব ঠিক করার আশায় । যা আদৌ সম্ভব কিনা জানা নেই কারো ।
.
.
চলবে..........................
============================== 0000 ===============================
ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল
পর্ব_২১
লেখিকা : আফরোজা আক্তার
বুকের মধ্যে নিমিষেই এক তুফান শুরু হয়ে যায় বেলীর । আসলেই কি সুখের মিলন হতে দেয়া যায় ? অসলেই কি একটু সুখের মিলন হলে খুব বেশি ক্ষতি হবে ? তবুও কেন যেন কোথাও একটা বাঁধা কাজ করে বেলীর মাঝে । আবার নাও করতে পারে না , যতই হোক স্বামী তো তার । বিয়ের পর বাবা মায়ের পর স্ত্রীর উপর তার স্বামীর অধিকার থাকে বেশি । কিন্তু বেলীর ভেতরটা হু হু করে কেঁদে ওঠে তখন যখন ইরফানের করা সমস্ত খারাপ আচরণ গুলো মনে পড়ে যায় । যখন মারধরের দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে । বেলী তখন নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না ।
আজও ব্যাতিক্রম কিছু ঘটে নি তার সাথে । সুখের মিলনের সাথে দেখা হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সেইসব বিষাদের দিন গুলো মনে পড়ে যায় বেলীর । ইরফানের হাতের স্পর্শ পাওয়ার সাথে সাথে অন্তরখানা পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে তার । নিজের ভেতরে উথালপাতাল শুরু হয়ে গেছে বেলীর । কেন যেনো মানতে পারে না সেও । এতটা কষ্ট কি তার পাওনা ছিল ? নিজের কাছে এইসব জিনিস গুলো লজ্জাজনক লাগে বেলীর কাছে ।
বেলী আর সহ্য করতে পারেনি । পিছন ফিরেই ঝাপটে ধরে ইরফানকে । বেলীর এইভাবে ঝাপটে ধরা দেখে একটু হতভম্ব হয়ে যায় ইরফান । বেলী শব্দ করেই কেঁদে দেয় ইরফানের বুকে । দুইহাতে নিজের মুখ ঢেকে ইরফানের বুকে হাতে আবদ্ধ সেই মুখটি লুকিয়ে রেখে কেঁদে ওঠে বেলী । এক সময় ইরফান বেলীর পিঠটা নিজের হাত দিয়ে আগলে ধরতে যাবে তখনই বেলী ধুপ করে কাঁদতে কাঁদতে নিচে বসে পড়ে । একে তো শরীর খারাপ তার উপর এইভাবে কান্না করাটা তার শরীরের পক্ষে খারাপ হতে পারে । মুহুর্তের মাঝে ইরফান চমকে যায় , বেলীর কান্না আরেকটু জোর শব্দে পরিণত হয় । ফ্লোরে বসে মুখ চেপে কাঁদতে থাকে মেয়েটা । ইরফান হাটু গেড়ে নিচে বসে পড়ে বেলীর কাছে । হাতটা দিয়ে বেলীর মাথায় রাখে ।
- কি হলো ? এইভাবে কাঁদছো কেন ?
-................
- এই বেলী এইভাবে কাঁদছো কেন ?
-..................
কাঁদতে কাঁদতে হিচকি উঠে গেছে মেয়েটার । ইরফান বেলীর কান্না থামানোর জন্যে গ্লাসে এনে পানি দেয় তাকে খাওয়ার জন্যে । কিন্তু বেলী খায়নি । তারপর কেন জানি নিজ থেকেই ইরফানের হাতটা টেনে নিজের কাছে বসায় সে । কাঁদতে কাঁদতে বলতে শুরু করে দেয় বেলী ।
- আপনি আমায় অনেক মারছেন । আপনি জানেন আমি কত ব্যাথা পাইতাম তখন ? আমার অনেক ব্যাথা লাগতো আমি তবুও কিছু বলতাম না আপনাকে । আরে ভালো না বাসতেন তাই বলে এইভাবে মারবেন ? আপনার এক একটা লাথি এক একটা ঘুষি অনেক ব্যাথা দিত আমার এই শরীরটাকে । আপনি জানতেন না আমি কত রাত ব্যাথার যন্ত্রণায় ঘুমাইতে পারি নাই । সেইবার শলার ঝাড়ু দিয়ে পর্যন্ত মারছেন । এমন ভাবে মারছেন যে শলা পর্যন্ত ঢুকে গেছে শরীরে । এইভাবে বুঝি কেউ কাউকে মারে , হ্যাঁ ।
এই দেখেন৷, এইদিকে দেখেন , আমার এই শরীরটা যখন স্বামীর ছোয়া পেতো তখন এই শরীরটা স্বামীর মাইর পাইছে । এই ইরফান সাহেব , আমাকে এত মারছেন কেন ? আমাকে বললেই হইতো আমি চলে যেতাম । বা ভাতের সাথে বিষ দিয়ে দিতেন খেয়ে মরে যেতাম । তবুও না মারতেন । এইদিকে দেখেন , এই যে দেখেন আমার পিঠটায় কত দাগ এখনও আছে । সেইবার বেল্ট দিয়ে মারছেন । আচ্ছা একটুও মায়া হয় নাই , তাই না ? বেলীকে যে এইভাবে মারি ওর শরীরটা কি এত মাইর নিতে পারে ? একবার জানতে চান নাই , তাই না ? ওইদিন চা দিতে একটু
দেরি হয়ে গেছিলো বলে এইভাবে মারছিলেন । আপনি আমায় মেরে কেন ফেলান নাই ? হ্যাঁ , কেন মেরে ফেলান নাই আমাকে আপনি ? শুনেন না , এইদিকে তাকান আমার দিকে , আমি কিন্তু অনেক ব্যাথা পাইতাম যখন মারতেন , কিন্তু শব্দ করতাম না । বলেন করতাম কিনা , বলেন না , আমি কি মারার সময় কোন শব্দ করতাম ?
বেলী নিজের মাঝে তখন ছিল না , সে অনেকটা উন্মাদ হয়ে গেছে মনে হচ্ছিলো । চোখের পানি নাকের পানি এমনকি লালা চলে আসছে মুখ দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে । হয় অনেক সময় এমন । মানুষ যখন অতি শোকে পাথর থাকে তারপর সেই পাথর গলে গেলে তখন যেই পতিক্রিয়া হয় এখম সেই প্রতিক্রিয়াটা হচ্ছে বেলীর । ইরফানের ভেতরের কলিজাটা ছিড়ে যাচ্ছে বেলীর এমন পাগলামি দেখে । সে একদম নিশ্চুপ হয়ে ফ্লোরে বেলীর সামনে বসে আছে । বেলী হাত ধরে জোড়াজুড়ি করছিল উত্তর জানার জন্যে । তখন বাধ্য হয়েই ইরফান জবাব দেয় ৷
- উহু কোন শব্দ করতে না ।
তখন বেলী আবারও কেঁদে দেয় । এইবার ইরফানের দুই হাত ধরে নিজের কাছে আনে বেলী । তারপর আবার বলা শুরু করে সে ,
- যখন দেখতেন আমি শব্দ করতাম না তখনও কি মায়া হতো না আমার উপরে । খালি মেরেই গেছেন মেরেই গেছেন । আমি কি ব্যাথা পাই না বলেন ? আমিও ব্যাথা পাই ।
- হু , আমি তো অমানুষ , আমি বুঝতেই পারি নাই এটা যে একটা ফুল । যেই ফুলটা একদম নিষ্পাপ , সেই ফুলটাকেই এত অবহেলা করে বসলাম ।
- আমি কি করছিলাম হ্যাঁ , কি করছিলাম , আপনি আমায় একটুও দেখতে পারেন নাই , বলেন । আমি কি বলছিলাম যে আমাকে বিয়ে করেন , তখন তো আমার বাবা আর আপনার বাবা বললেন আমি কি করতাম । বাপ আমার মরে গেল , তখনও আপনার বাবা বিয়ের কথা বলে গেছে আমার মাকে । আমার কি অপরাধ ছিল । আমি একদিন নামাজ পড়তেছিলাম সাড়া দিতে পারি নাই বলে জুতা নিয়ে আসছেন আমাকে মারার জন্যে । আমার তখন কি অন্যায় ছিল , বলেন তো ?
- অন্যায় তোমার না , অন্যায় ছিল আমার । আমিই খারাপ মানুষ , আমিই কষ্ট দিলাম তোমাকে ।
- আমার বাপ মা আমায় মারে নাই , আমি তাদের কাছে ফুল ছিলাম তাদের শখের বেলীফুল , আর সেই ফুলটারেই আপনি ছিড়ে ফেললেন এইভাবে ? এর থেকে ভালো ছিল আমায় বিষ দিয়ে মেরে দিতে । আমি টু-শব্দটাও করতাম না ।
ইরফানের আর সহ্য হয়নি । এক টানে বেলীকে নিজের বুকে এনে ফালায় সে । তারপর বসা অবস্থাতেই শক্ত করে ধরে রাখে বেলীকে । ইরফান আজ কাঁদছে , ছেলেরা কম কষ্টে কাঁদে না । তাদের তেমন কষ্ট হলেই তারা কাঁদে । ইরফান আজ নিরবে কাঁদছে । বেলীকে নিজের কলিজায় ঢুকিয়ে রাখতে ইচ্ছা করছে তার । এইটুকুন একটা মেয়ে সে অথচ এই বয়সে সে কি কি সহ্য করে গেছে , তবুও মুখ খুলে নি । বেলী তখন ইরফানের বুকে থেকেই বলতে শুরু করে ,
- বুঝবেন বুঝবেন একদিন ঠিক বুঝবেন , আমি যেদিন থাকবো না সেদিন খুব করে বুঝবেন । আমি তখন আকাশের তারা হয়ে যাবো , আমি আর আমার বাবা তখন উপর থেকে দেখবো আপনি কিভাবে কান্না করেন । হারিয়ে যাবো আমি আপনার জীবন থেকে , তখন বুঝবেন , হ্যাঁ , দেইখেন তখন বুঝবেন ।
বেলীর কথা শুনে ইরফান বেলীকে আরও শক্ত করে ধরে রাখে আর বলে ,
- চুপ , একদম চুপ । তোকে হারাতে দিলে তো হারাবি ।
- বেলীফুল ঝরে যাবে ।
- কখনো না ,
- হ্যাঁ , দেইখেন আপনি বেলীফুল ঝরে যাবে । সেইদিন বেলীফুলের কবরের পাশে বসে শুধু চেয়ে দেখবেন আপনি আর বেলীফুল তখন মিশে থাকবে মাটির সাথে ।
বেলীর কথা শুনে ইরফান আবারও ধমক দিয়ে থামায় বেলীকে ।
- থামবি তুই , না হয় আবার মারবো কিন্তু ,
- মারেন , আরও মারেন ।
- হ্যাঁ মারবোই তো এইবার সত্যি সত্যি মারবো ।
- মারেন ,
- এখন কিন্তু মার খাবি বলে দিলাম ,
- হ্যাঁ মারেন , মেরেই ফেলেন আমাকে ।
ইরফান এইবার বেলীকে ছেড়ে দেয় । নিজের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় বেলীকে । তারপর উঠে দাঁড়ায় সেইস্থান থেকে । বেলী তখনও বসা অবস্থাতেই আছে । ইরফান বেলীকে সেইভাবেই কোলে তুলে নেয় । কোলে তুলে বিছানায় শুইয়ে দেয় বেলীকে । অঅন্ধকার রুমে ড্রীম লাইটের আলোয় যতটুকু দেখা যায় তাই-ই অনেক । পাশে থাকা টাওয়ালটা দিয়ে বেলীর চোখের পানি নাকের পানি সব মুছে মুখটা পরিষ্কার করে দেয় ইরফান
। তখন বেলী চুপ করে থাকে আর ইরফানের দিকে চেয়ে থাকে । ইরফান বেলীর মাথায় হাত রাখে ,
- ঘুমাও , আর একটা কথা না । কাল সব শুনবো আমি ।
-..................
- আর হ্যাঁ আমি আসলেই খারাপ মানুষ , কি করার আল্লাহ পাক তোমার ভাগ্যে এই খারাপ মানুষটাকে রাখছে । তাই কিছুই করার নাই । কাঁদবা না একদম , চুপচাপ ঘুমাবা ।
বেলী একদম চুপ করে শুয়ে আছে । চোখে তার ঘুমের নেশা । চোখ গুলো টিপ টিপ করছে আর বুজে আসছে । ইরফানের বেলীর মাথায় হাত বুলানোটা কাজে এসেছে । ইরফানের ডান হাতটা ধরে আছে বেলী । তারপর একটা সময় বেলী আস্তে করে ঘুমের রাজ্যে চলে যায় ।
বেলীর ঘুমন্ত চেহারার দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে ইরফান । বেলীর আজকের কথাগুলো ইরফানের ভেতরটাকে নাড়িয়ে দিয়েছে । বেলী ঘুমানোর পর ইরফান বেলীকে রেখে নিজের রুমে যায় ।
ইরফান কখনো বাসায় স্মোক করে না । তবে আজ সে বারান্দায় দাঁড়িয়ে স্মোক করছে । ঘড়িতে প্রায় ২ টা বাজে । রাত গুলো হয়তো এমনভাবেই কাটবে তার । এমন নির্ঘুম আর নিস্ত নিস্তব্ধ । বেলীর কথাগুলো বার বার কানে বাজতে থাকে ইরফানের , বেলীর কষ্ট গুলো বার বার বেলীকে মনে করিয়ে দেয় তার প্রতি ইরফানের করা পৈশাচিকতা গুলো । যা সে ভুলতে ভুলতেও ভুলে নি । হয়তো ভুলতেও পারবে না ।
একদিকে রুবি অন্যদিকে বেলী । রুবিকে সে ছাড়তে পারবে না যদি না রুবি চায় আর বেলী চাইলেও বেলীকে সে ছাড়তে পারবে না । এক সাথে দুই নৌকায় পা দিয়ে চলা যায় না । তেমনি দুই বউ নিয়ে চলা যায় না । হয়তো চলা যায় তবে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় । সেইজন্যেই হয়তো বলে সবাই ,
" ভাবিয়া করিও কাজ , করিয়া ভাবিও না "
হাতে থাকা সিগারেটটায় শেষ টান দিয়ে আগুন নিভিয়ে নিচে ফেলে দেয় ইরফান । বেলীর সাথে করা সমস্ত অন্যায়ের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে তাকে । অনেক সময় লস হয়ে গেছে । আর সময় নষ্ট করা যাবে না । পর মুহুর্তে বেলীর বলা কথাটা মনে পড়ে যায় ইরফানের ,
" দেইখেন আপনি বেলীফুল ঝরে যাবে । সেইদিন বেলীফুলের কবরের পাশে বসে শুধু চেয়ে দেখবেন আপনি আর বেলীফুল তখন মিশে থাকবে মাটির সাথে "
বেলীর কথাটা অন্তরে দাগ কেটে গেছে । সে বেলীকে এইভাবে ঝরে যেতে দেবে না । আগলে রাখবে নিজের বুকের সাথে অতি যতনে ।
- বেলী আমি তোকে চলে যেতে দিবো না । মন পিঞ্জরে যতন করে আটকে রাখবো তোকে । তুই দেখে নিস এই ইরফান তোকে সেই সব খুশি দিবে যা তোর প্রাপ্য । আমার মনের মধ্যে রাখা পুরো জমিনেই তোর রাজত্য চলবে । দেখে নিস তুই ।
বিছানায় শুয়ে এইসব ভাবতে কখন যেনো ঘুম চলে আসে তার চোখে । মনের ভুলে বেলীর রুমেও যেতে ভুলে গেছে সে । নিজের রুমেই ঘুমিয়ে যায় সে নতুন এক ভোরের আশায় সেই সাথে নতুন করে সব ঠিক করার আশায় । যা আদৌ সম্ভব কিনা জানা নেই কারো ।
.
.
চলবে..........................
============================ 000000 ======================================

A short animated film about a woman's experience with vaginismus and chronic pelvic pain - how health professionals have failed her, guys rejected her, and anger and shame plagued her body. 

bout Iris At Iris, our message to women is simple: You are enough. We produce relatable, engaging video that makes our audience laugh, cry, and say, "Yep, that's me."  

I don’t normally comment on videos but I had to after reading the garbage left so far. Thank you for this short film. Vaginismus has been isolating and it wasn’t until I found the support group that I felt heard and validated. Here’s to finally accepting yourself, getting help, and finding your person Shelby! (Also woohoo to achieving PIV!)

I just lost my virginity at 29. It wasn’t due to vaginismus or any other health condition. And, although it was special in various ways, it wasn’t the highlight of my life. Please don’t ever feel embarrassed to be a virgin, regardless of the reason. You have the power to value yourself.

This video is so important for young girls and women in general to see.Thank you Shelby for being so brave and strong and for sharing your story to raise awareness.

 After all he or she is a mankind and right to live well so father mother relative should give shelter and teach him hand works as she can live .our society should not neglect him. They need proper education and training.According to their qualifications they also need job. I hope government will think about it.

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

===

You may also like

===